৫ মাসে গ্রামীণফোনের শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ১০৭ টাকা
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাবি করার পর থেকে শেয়ারের অব্যাহত দরপতন শুরু হয়েছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের। গত ৫ মাসে অপারেটরটির শেয়ার প্রতি দাম কমেছে ১০৭ টাকা। আর দেশের শেয়ারবাজারের সব থেকে বড় মূলধনী এই কোম্পানির শেয়ার দাম কমায় সার্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারাচ্ছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী।
সূত্রমতে, গত পাঁচ মাসে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন অপারেটরটির শেয়ারমালিকরা। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক, সাধারণ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের দৈনন্দিন লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বিটিআরসি থেকে পাওনা দাবি করার দিন থেকেই গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম কমতে থাকে। বিটিআরসি থেকে পাওনা টাকা দাবি করে গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়ার আগের কার্যদিবসে (১ এপ্রিল) কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৪১৭ টাকা। অব্যাহত দরপতনের কারণে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ৩১০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ১০৭ টাকা।
সূত্রমতে, গ্রামীণফোনের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি তিন লাখ ২২টি। অর্থাৎ অব্যাহত দরপতনে গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম সম্মিলিতভাবে কমেছে ১৪ হাজার ৪৪৮ কোটি ২১ লাখ দুই হাজার ৩৫৪ টাকা। অব্যাহত দরপতনের কবলে পড়ে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশ মালিক গ্রামীণফোনের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা হারিয়েছেন ১৩ হাজার তিন কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ারে মালিক হিসেবে এর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে, ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং বিদেশিদের কাছে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এ হিসাবে গত পাঁচ মাসে গ্রামীণফোনের শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিদেশিরা হারিয়েছেন ৫৬৯ কোটি ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ৫৬৬ কোটি ৩৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ৩০৯ কোটি ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি । এর মধ্যে বিটিআরসির পাওনা আট হাজার ৪৯৪ কোটি এক লাখ টাকা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা চার হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
বিটিআরসির পাওনার মধ্যে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সুদের পরিমাণ রয়েছে ছয় হাজার ১৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এসব পাওনার জন্য গ্রামীণফোনকে প্রথমবারের চিঠিতে ১০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয় বিটিআরসি। রিপ্লেসমেন্ট সিমের জন্য ট্যাক্স, টু-জি লাইসেন্স নবায়ন ফি ও ইন্টারেস্ট বাবদ এই টাকা দাবি করে তারা, যা মূল্যায়ন করেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল।
কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল চিঠি দিয়ে পাওনার দাবি অস্বীকার করে এই হিসাব পূনঃ যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে এখন পর্যন্ত পাওনা দাবি মেটায়নি গ্রামীণফোন। ফলে বর্তমানে গ্রামীণফোনের এনওসি (সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র) দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এখন কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণফোনের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এরই মধ্যে নোটিশ পাঠাতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।